'M' ব্যাংক দেশের বিভিন্ন জায়গায় তার অফিস স্থাপন করে জনগণের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করে এবং ঋণদান করে। এ ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য মুনাফা অর্জন করা। অপরপক্ষে, 'Z' ব্যাংক যার মূল উদ্দেশ্য মুনাফা অর্জন নয়। এ ব্যাংক ঋণ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। দেশে দ্রব্যসামগ্রীর দাম বাড়তে থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে 'M' ব্যাংকটি 'Z' ব্যাংককে সহযোগিতা করে।
KYC ফর্মের মাধ্যমে গ্রাহক সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা যায় বিধায় এটি গ্রাহকের লেনদেনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে।
ব্যাংক যে ফর্মের মাধ্যমে গ্রাহক সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করে তাই মূলত KYC ফর্ম। এর মাধ্যমে গ্রাহকের সঠিক পরিচয় শনাক্ত করা যায়। গ্রাহক কী উদ্দেশ্যে হিসাব খুলবে, কেমন লেনদেন করবে, গ্রাহক কোনো অবৈধ কাজে জড়িত কিনা তা জানা যায়। আর এ উদ্দেশ্যকে লক্ষ্য রেখেই ব্যাংক KYC ফর্ম সংরক্ষণ করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত রূপসা ব্যাংক লি. হলো একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক। এ ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য হলো মুনাফা অর্জন। এ ধরনের ব্যাংক কম সুদে জনগণের কাছ থেকে আমানত হিসেবে অর্থ নেয়। আবার বেশি সুদে উক্ত অর্থ অন্যদের ঋণ দেয়।
উদ্দীপকের রূপসা ব্যাংক লি. দেশের বিভিন্ন এলাকায় এর শাখা স্থাপন করে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি জনগণের অর্থ আমানত হিসেবে নেয়। এর বিনিময়ে ব্যাংকটি তাদের কম পরিমাণে সুদ দেয়। আবার আমানতের অর্থ দিয়ে বিভিন্ন লাভজনক খাতে বেশি সুদে ঋণ দেয়। এ দুই সুদের পার্থক্য থেকেই রূপসা ব্যাংক লি. মুনাফা অর্জন করে। তাই বলা যায়, রূপসা ব্যাংক লি. একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্যাংক দুটির মধ্যে মেঘনা ব্যাংক লি. কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে দেশের উন্নয়নে ও ব্যাংক ব্যবস্থার শৃঙ্খলা রক্ষায় অধিক ভূমিকা রাখে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য দেশের অর্থনৈতিক কল্যাণ সাধন। এটি মুদ্রা প্রচলন, ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নয়ন, আর্থিক নীতি প্রণয়ন এবং আর্থিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারকে সহায়তা করে। তাছাড়া ঋণ নিয়ন্ত্রণ, মূল্যস্তরের স্থিতিশীলতা রক্ষা ও নিকাশ ঘরের মাধ্যমে আন্তঃব্যাংকিং লেনদেন নিষ্পত্তি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাজ।
উদ্দীপকে উল্লিখিত মেঘনা ব্যাংক লি. কেন্দ্রীয় ব্যাংক হওয়ায় এর উদ্দেশ্য মুনাফা অর্জন নয়। এটি ঋণ নিয়ন্ত্রণে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। দেশীয় বাজারে দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। উদ্দীপকের মেঘনা ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে দেশের কৃষি, শিল্প, বৈদেশিক বাণিজ্যের অনুন্নত ক্ষেত্রগুলোকে চিহ্নিত করে। পরবর্তীতে সে অনুযায়ী আর্থিক নীতি তৈরি ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নমূলক কাজে সাহায্য করে। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে। জনস্বার্থ বিরোধী কাজ থেকে বিরত রাখার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর উপর কড়া নজরদারি রাখে। তাই বলা যায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে মেঘনা ব্যাংক লি. দেশের উন্নয়নে ও ব্যাংক ব্যবস্থার শৃঙ্খলা রক্ষায় মূল ভূমিকা পালন করে।
বাণিজ্যিক ব্যাংক অর্থ ও অর্থের মূল্যে পরিমাপযোগ্য দলিল দ্বারা বিনিময়ের মাধ্যম সৃষ্টি করে। চেক, ক্রেডিট কার্ড, ব্যাংক ড্রাফট, পে-অর্ডার প্রভৃতি হলো ব্যাংক সৃষ্ট বিনিময়ের মাধ্যম। এসব দলিল ও উপকরণ দিয়ে সহজে অর্থ লেনদেন করা যায়। মূলত এসব দলিলের প্রচলন ঘটিয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংক বিনিময়ের মাধ্যম সৃষ্টি করে।